যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট’ বলে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউস।
সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত তুলে ধরে দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি প্রণয়নের কাজ চলছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে তাদের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে।
এর বিপরীতে, তেহরান পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে। তবে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে—যা বিশ্লেষকদের মতে তেহরানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারত।
কিন্তু এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ওয়াশিংটন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস স্পষ্টভাবে জানায়, ইরানের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের এই দাবি ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়,
“ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যে সমঝোতা স্মারকের কথা বলছে, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ধরনের তথ্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। সত্যের একটি মূল্য আছে, এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য কেউ যেন বিশ্বাস না করে।”
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিত দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং সম্ভাব্য শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি হয়নি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা পর্দার আড়ালেই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানি গণমাধ্যমের আগাম ও একপাক্ষিক তথ্য প্রকাশ কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের বর্তমান সংবেদনশীল অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে তথ্যযুদ্ধ ও কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সতর্ক অবস্থানও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক মহল এখন অপেক্ষা করছে, শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সত্যিই কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কি না এবং তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কী প্রভাব ফেলে।