নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) ভোরে উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের রুহিলী গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুহিলী গ্রামের যুবায়ের হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের মধ্যে কিছুদিন ধরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ার হোসেন তালিকা প্রস্তুত করার সময় যুবায়ের হোসেনের পরিবারের সদস্যদের নাম বাদ দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরই জেরে রোববার ভোর চারটার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে যুবায়ের ও আনোয়ারসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষে লিপ্ত উভয় পক্ষই এলাকায় বিএনপির কর্মী ও সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনিছ মিয়া বলেন, ‘যুবায়ের ঢাকায় থাকেন এবং চাষাবাদ করেন না। এ কারণে তালিকায় তার নাম নেই। তবে তার পরিবারের যাঁরা কৃষিকাজ করেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের নাম দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া তালিকাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটি নিয়েই মূলত সংঘর্ষ হয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে মমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।