প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ: মানুষও বাঁচে অন্য জীবের মৃত্যুতে! “পানি আর বাতাস ছাড়া মানুষসহ সমস্ত জীব যা ভক্ষণ করে, তা অন্য জীবের প্রাণ হত্যার মধ্য দিয়েই নিজের জীবন বাঁচিয়ে রাখে”—এই গভীর উক্তিটি শুধু দার্শনিক নয়, বৈজ্ঞানিকভাবেও চরম বাস্তবতা।
বিশ্বের খাদ্যচক্রে প্রতিটি জীব অন্য জীবের ওপর নির্ভরশীল। ঘাস খায় গরু, গরুকে খায় মানুষ; পোকা খায় পাখি, আর পাখিকে খায় বৃহত্তর শিকারি প্রাণী। অর্থাৎ, প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়ই হলো অন্য কোনো প্রাণের বিনাশ।
বিশ্ব জীববিজ্ঞানীরা বলেন, জীবন টিকে থাকে জীবনকে গ্রাস করেই। উদ্ভিদও বেঁচে থাকে মাটির জীবাণু ও মৃত জীবের গলিত অংশ খেয়ে। এভাবেই পুরো পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য এক চিরন্তন “খাদ্যচক্রে” আবদ্ধ।
মানুষের ক্ষেত্রেও চিত্রটা ভিন্ন নয়। একজন মানুষ প্রতিদিন শাক-সবজি, মাছ, মাংস, ডিম বা ফল—সবকিছুই কোনো না কোনো জীবের প্রাণ বা অংশবিশেষ। এমনকি নিরামিষভোজীরাও পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের প্রাণ নষ্ট করেন, কারণ গাছও শ্বাস নেয়, অনুভব করে, বাঁচে।
বিশিষ্ট পরিবেশ দার্শনিকরা বলেন,
“প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ—এটাই প্রকৃতির ভারসাম্য। মানুষ কেবল সেই চক্রের সবচেয়ে সচেতন ভোক্তা।”
এমন সত্য উপলব্ধি করেই গবেষকরা মনে করেন, মানুষের উচিত প্রতিটি খাদ্যের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, কারণ প্রতিটি আহারের পেছনেই আছে কোনো না কোনো জীবনের আত্মাহুতি।
বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে—জীবন নিজেই এক মহাজাগতিক লেনদেন,
যেখানে “বেঁচে থাকা” মানেই “কাউকে না কাউকে মেরে ফেলা”।
আর এই নির্মম সত্যটাই আমাদের শেখায়—
প্রকৃতি বাঁচাতে হলে, প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।