কুমিল্লার দেবিদ্বরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিহত শহীদ আব্দুর রাজ্জাক রুবেলের মা হাসনে আরা বেগম জাতীয় আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে তার ছেলে হত্যার দায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর চাপান। তিনি ট্রাইব্যুনাল থেকে তার মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন।
হাসনে আরা বেগম জানান, ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার ছেলের একমাত্র নাতি জন্ম নিয়েছে, যেটি বর্তমানে ১১ মাসের। তার ছেলের স্ত্রী সেই সন্তানসহ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, নিহত রুবেলের স্ত্রী ছিল অন্তঃসত্ত্বা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিনই তার স্বামীর হত্যা করেছে।
আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসনে আরা বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে হত্যার জন্য আমি শেখ হাসিনার বিচার চাই।”
বুধবার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন বিচারালয়ে শহীদ রুবেলের মা ছাড়াও পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন, যাদের মধ্যে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক যাকিয়া সুলতানা, পরিচালক ডা. খায়ের চৌধুরী, শহীদ মারুফ হোসেনের বাবা মো. ইদ্রিস ও আহত ছাত্রী আমেনা আক্তার রয়েছেন।
জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অনেক আহতের মধ্যে ১১ জন দুই চোখের দৃষ্টি এবং ৪৯৩ জন এক চোখের দৃষ্টি স্থায়ীভাবে হারিয়েছে। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের যাকিয়া সুলতানা এই তথ্য আদালতে উপস্থাপন করেন।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ চার আসামিকে আত্মসমর্পণ করার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তারা পলাতক আসামি হিসেবে আছেন।
বিচার কার্যক্রম মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ রুবেলের মা বলেন, তার ছেলে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকালে আন্দোলনে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হয়। বেলা দেড়টার দিকে খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তার ছেলে নিহত হয়েছে। তবে স্থানীয় কিছু নেতা তার কাছে মামলা তুলে নিতে নগদ টাকা ও দোকান ঘর দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তিনি এসব প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার ছেলের হত্যার বিচার চান।
এই মামলায় অপর আসামিরা হচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।