নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Green Umbrella’ কর্মসূচি সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে চালক ও হেলপারদের মাঝে পোশাক, পরিচয়পত্র ও কন্ডাক্টর লাইসেন্স বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের চারটি শোকাহত পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন- “Green Umbrella কোনো সাধারণ কর্মসূচি নয়, বরং এটি নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিক পরিবহনের প্রতি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার। এই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই আমরা সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সক্ষম হব।” তিনি আরও যোগ করেন যে, জেলা প্রশাসন সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং এ কর্মসূচি তারই একটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ।
প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন- সড়ক পরিবহন খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে বিআরটিএ নিরলসভাবে কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ সারা দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন- চালক-শ্রমিকদের পোশাক বিতরণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি তাদের পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যাবসায়ের সূচনা। জেলা প্রশাসক আজ এমনভাবে কাজ করছেন যেন তিনি নারায়ণগঞ্জের পাঁচ আসনের একক প্রতিনিধি হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সভাপতি চালকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন- মাদক সেবন করে কেউ গাড়ি চালাবেন না, যত্রতত্র গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকুন এবং ওভারটেকিং এড়িয়ে চলুন। আজকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির শিক্ষা জীবনে কাজে লাগাতে হবে।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ জামায়াতে ইসলামের একজন সুরা সদস্য ও আহ্বায়ক পরিবহন শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের জন্য একটি সঠিক বেতন কাঠামো প্রণয়ন জরুরি, যাতে তাদের কষ্টসাধ্য শ্রম যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়। এছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বক্তারা গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও ড্রাইভার হেলপারদের নিয়ে সতর্কমূলক বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে মতামত
সিভিল সার্জন এ. আবুল ফজল মো. মশিউর রহমান সড়ক দুর্ঘটনাকে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন- দুর্ঘটনায় আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয় ও সামাজিক প্রভাব ভয়াবহ। এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
প্রতীকী বিতরণ ও মানবিক সহায়তা
অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে দুই জন চালক ও দুই জন হেলপারের হাতে পোশাক, পরিচয়পত্র ও কন্ডাক্টর লাইসেন্স তুলে দেওয়া হয়। তারা হলেন- মো. জীবন অন্ডারি (বন্ধন পরিবহন, চালক), মো. জাহেব (বন্ধন পরিবহন, চালক), শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র দাস (বন্ধন পরিবহন, হেলপার), শাহ আলম (উৎসব পরিবহন, হেলপার)।
এছাড়া দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়। সহায়তার চেক পান- জনাবা ফাতেমা, জনাব মো. সেলিম মিয়া, জনাব মো. আলাল উদ্দিন ও জনাব মো. আশরাফুল আলম।
সার্বিক তত্ত্বাবধান
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি স্থায়ী তদন্ত কমিটি ও ট্রাস্টির সদস্য সচিব হিসেবে পুরো আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
‘Green Umbrella’ কর্মসূচির এই আয়োজন কেবল একটি কর্মসূচি নয়, বরং সড়ক নিরাপত্তায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা। চালক ও হেলপারদের জন্য পোশাক ও পরিচয়পত্র প্রদান যেমন শৃঙ্খলার প্রতীক, তেমনি নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান মানবিকতার অনন্য উদাহরণ। নারায়ণগঞ্জবাসীর আশা এ কর্মসূচি দেশের অন্যান্য জেলায়ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।