সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা সংক্রান্ত পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ দেওয়ার সময় আরও এক দফা বাড়িয়েছে। নতুন সময়সীমা আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই বিষয়ক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে সরকার গত ১১ মার্চ একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে, যার সভাপতিত্ব করছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ওই কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে সময়সীমা একবার বাড়ানো হয়েছিল এবং বর্তমানে সুপারিশ দেওয়ার পূর্বের সময়সীমা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর।
কমিটিতে থাকছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক আলী আশফাক এবং রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল হুদা।
এই কমিটির মূল কাজ হলো ২০১৬ সালে ঘটে যাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করা, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা।
২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রিজার্ভ চুরি হয়। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার শ্রীলঙ্কা থেকে উদ্ধার করা হলেও, বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের বিভিন্ন ক্যাসিনোতে চলে যায়। প্রায় সাড়ে আট বছর ধরে চলা আইন প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলে সম্প্রতি এই অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এই চুরির ঘটনায় দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবমূর্তির ওপর গভীর প্রভাব পড়ে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
রিজার্ভ চুরির ঘটনা বাংলাদেশের আর্থিক ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হলেও এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।