বিভিন্ন অনিয়ম ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে অনুমোদন পাওয়া ‘লালন বিজ্ঞান ও কলা বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন নতুন ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন অনুযায়ী বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়েছে। বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের একটি বাণিজ্যিক ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাথমিক অনুমোদন মেলে ২০২৩ সালের জুন মাসে। তখন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন ফৌজিয়া আলম, যিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতার সহধর্মিণী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ট্রাস্টি বোর্ডে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়। হালিমুজ্জামানকে নতুন চেয়ারম্যান করে শিক্ষা মঞ্জুরি কমিশন (UGC) থেকে পুনর্গঠিত হয় বোর্ড।
বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে নতুন ট্রাস্টি বোর্ড অনুমোদন পায় এবং নভেম্বর থেকে শুরু হয় প্রশাসনিক কার্যক্রম। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি বিভাগে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১০১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে: কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE), ইংরেজি, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এবং ব্যাংকিং ও ফাইনান্স।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৬০ জন। প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সূত্র বলছে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত শ্রেণিকক্ষ, আইটি ল্যাব এবং পাঠাগারসহ শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে।
বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান জানিয়েছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক নেতার যোগাযোগ নেই। আমরা একটি স্বচ্ছ, আধুনিক ও নীতিনিষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়তে চাই। যারা পূর্বে বোর্ডে ছিলেন, তারা সবাই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন।”
এদিকে নতুন ভিসি নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মঞ্জুরি কমিশনে পাঠানো তিন সদস্যের প্যানেলে শীর্ষে রয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান। ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পছন্দের ভিত্তিতে নয়, যোগ্যতার মানদণ্ডে ভিত্তি করেই ভিসি নির্বাচন করা হবে।
তবে জনসাধারণ ও শিক্ষাবিদদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—একটি বাণিজ্যিক ভবনের অস্থায়ী ফ্লোরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা কতটা যৌক্তিক এবং শিক্ষার মান বজায় রাখা কতটা সম্ভব?
এমন প্রশ্নের জবাবে রেজিস্ট্রার মনিরুজ্জামান বলেন, “এটি একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাস। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণ কাজ শুরু হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। লালন শাহের নাম ব্যবহার করায় কেউ কেউ এতে সম্মানিত বোধ করলেও, অন্যরা বলছেন—এ নামের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সত্যিকারের একটি উচ্চমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।