কক্সবাজারের টেকনাফে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলিসহ এক কুখ্যাত দুষ্কৃতিকারীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক।
কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার গভীর রাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের একটি সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী পালানোর চেষ্টা করে। তবে ধাওয়া করে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয় তারা। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক ও পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ ও টেকনাফ মডেল থানার একটি বিশেষ টিম। অভিযানে অংশগ্রহণকারী এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আটক দুষ্কৃতিকারী দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, “সমুদ্র উপকূল ও সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে কোস্ট গার্ড সর্বদা সচেষ্ট। দেশীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, এখনো কিছু দুষ্কৃতিকারী সীমান্তকে ব্যবহার করে অপরাধের চেষ্টা করছে। তবে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
আটক ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযান জোরদার হওয়ায় অপরাধীরা এখন আতঙ্কে রয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ প্রবণতা অনেকটা কমে আসবে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে সীমান্তজুড়ে আরও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা, যাতে দ্রুত সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
আটক দুষ্কৃতিকারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কোস্ট গার্ড ও পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, অপরাধীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার সহযোগী চক্রের সদস্যদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কতায় দুষ্কৃতিকারীদের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় আর টিকবে না।