বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চায়। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কেউ যদি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তবে তাকে রাজনৈতিকভাবে এর মূল্য দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিএনপি নেতা।
আমির খসরু বলেন, “নির্বাচিত সরকার না থাকলে জবাবদিহিতা থাকে না—নুরের ওপর হামলার ঘটনা সেটাই প্রমাণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসনের অবনতি ঘটেছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে, সেটার জন্য রাজনৈতিকভাবে দায় নিতে হবে। কারও ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে রাষ্ট্রকে অস্থির করে তোলা যাবে না। জনগণের স্বার্থে রাজনীতির মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে হলে, জনগণের কাছেই যেতে হবে।”
এ সময় বিএনপি নেতা বলেন, “সব জায়গায় মতের ঐক্য হবে না, এটি স্বাভাবিক। কেউ যদি আলাদা দাবি তোলে, সেটাও গ্রহণযোগ্য। কিন্তু রাজনীতির জায়গা হতে হবে জনগণের মঞ্চ।”
এদিকে, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। টানা ১৮ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার বিকেলে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, “নুরুল হকের শারীরিক অবস্থা উন্নতি হওয়ায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বাসায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”
হাসপাতাল ছাড়ার সময় নুর বলেন, “আমি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নই। আপাতত বাসায় যাচ্ছি, এরপর আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অন্য কোনো হাসপাতালে যাব।”
নুরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাকে রাজধানীর রামপুরা মহানগর প্রজেক্ট এলাকার নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ আগস্ট বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হন নুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার সময় তার মুখমণ্ডল ও বুক রক্তাক্ত হয়ে গেছে, এবং তিনি অচেতন অবস্থায় স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছেন।
পরদিন সকালে তার জ্ঞান ফিরে আসে। চিকিৎসকরা জানান, মাথায় এবং মুখে গুরুতর জখম হয়। শুরু থেকেই নুরের শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালান মেডিকেল বোর্ড।
নুরের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন। বিএনপিসহ অনেক দল একে গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের অধিকারের ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য এবং সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে।