ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শনিবার বিকেল। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলার জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত হলো বহুল আলোচিত কাব্যগ্রন্থ “হৃদয়ে শহিদ জিয়া”-এর মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভা। জাতীয়তাবাদী সাহিত্য পরিষদ (জাসাপ)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কবি মোঃ শফিউল্লাহ মিয়া ভাই এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কবি মোঃ শরিফুল ইসলাম (শরিফ খান)। তাঁদের সম্পাদনায় প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থটি মূলত শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন কবিতা, প্রবন্ধ ও স্মৃতিচারণার সমন্বয়ে গঠিত।
অতিথিদের উপস্থিতি ও বক্তব্য
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বহু ভাষাবিদ ও গবেষক মাহমুদুল হাসান নিজামী। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. সুকমল বড়ুয়া এবং শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের রূপকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থে একজন দেশপ্রেমিক ও আপোষহীন নেতা। তাঁরা আরও বলেন, জিয়ার আদর্শ ও অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে সাহিত্যের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি।
সাহিত্য ও জাতীয় চেতনা
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা জোর দিয়ে বলেন—সাহিত্য কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি জাতীয় চেতনাকে উজ্জীবিত করার অন্যতম শক্তি। “হৃদয়ে শহিদ জিয়া” কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও দেশপ্রেমকে সাহিত্যিক রূপে তুলে ধরা হয়েছে।
তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, জাতীয়তাবাদী সাহিত্য পরিষদের (জাসাপ) এই উদ্যোগ দেশের সাহিত্যাঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং জাতীয়তাবাদী চেতনাকে সমৃদ্ধ করবে। বক্তাদের মতে, সাহিত্য পরিষদ শুধু কবিতা-সাহিত্য চর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আদর্শিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
জাসাপের নির্বাহী কমিটি ঘোষণা
অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী সাহিত্য পরিষদের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির আংশিক ঘোষণা দেওয়া হয়। নবগঠিত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন-
সভাপতি: কবি মোঃ শফিউল্লাহ মিয়া ভাই, সিনিয়র সহ-সভাপতি: কবি জুলিয়াস খান, সহ-সভাপতি: কবি মজিবুর রহমান বকুল, কবি ইকবাল আহমেদ খান, কবি মোশাহেদ চৌধুরী, কবি ড. এ টি এম শাহ আলম সিকদার, কবি জি এম মোস্তাফিজুর রহমান টগর, কবি আব্দুল হান্নান মাস্টার ও কবি মীর সালেহা, সাধারণ সম্পাদক: কবি মোঃ শরিফুল ইসলাম (শরিফ খান), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: কবি খন্দকার মাসুম মুক্তাদীর (মুক্তাদীর মুন্না), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: কবি আমজাদ হোসেন খান, কবি রেজাউল করিম রেজা, কবি মুক্তি আল মাহমুদ, কবি আরিফুল ইসলাম আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক: কবি এম এ মান্নান শেখ, অর্থ সম্পাদক: কবি রাজিয়া খাতুন চম্পা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক: কবি তাসলিমা বেগম, দপ্তর সম্পাদক: কবি সালেহা নাসরিন ডরিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: কবি রবিউল আউল (রবি বাঙালী), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক: কবি মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক: কবি মাওলানা আনিস চৌধুরী সানি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: আবৃত্তি শিল্পী ফজলে রাব্বি । আংশিক এই কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে জাসাপের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।
নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান
বক্তারা তাঁদের আলোচনায় জোর দিয়ে বলেন, নতুন প্রজন্মের সামনে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম তুলে ধরতে হবে। কারণ তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। সেই ঐতিহাসিক সত্যকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলেই তরুণ সমাজ জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে।
তাঁরা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জুলাই বিপ্লবের আদর্শ ও গণতন্ত্রের মজবুত ভিত প্রতিষ্ঠায় জাসাপকে কাজ করে যেতে হবে। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গবেষণার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই পরিষদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে “হৃদয়ে শহিদ জিয়া” কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক মহলের অভিমত এই কাব্যগ্রন্থ ও জাতীয়তাবাদী সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও আদর্শকে লালন করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে এই পরিষদের ভূমিকা যুগান্তকারী হয়ে থাকবে।