পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক এলাকা লক্ষীবাজারে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত শিশু পার্কটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের কারণে ব্যবহার থেকে বঞ্চিত ছিল।
এলাকার শিশু-কিশোররা যেখানে অবাধে খেলাধুলা করার সুযোগ পেতো, সেখানে দখলদারিত্বের কারণে তারা দীর্ঘদিন হতাশায় দিন কাটাচ্ছিল। অবশেষে সূএাপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে দখলমুক্ত করার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুদের বিনোদন ও মানসিক বিকাশের জন্য স্থাপিত এই পার্কটি দখলকারীদের কারণে অনেক বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। শিশুদের বিনোদনের একমাত্র উন্মুক্ত স্থান হারিয়ে যাওয়ায় এলাকায় অসন্তোষও বাড়ছিল। সম্প্রতি রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার অংশ হিসেবে সূএাপুর থানা বিএনপি দখলমুক্ত কার্যক্রম হাতে নেয়। তাদের এই উদ্যোগে এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
দখলমুক্তির পর এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝলক ফুটে উঠেছে। তারা বলছে, অবশেষে তারা একটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ জায়গা পেলো যেখানে তারা খেলাধুলা, আড্ডা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে। অভিভাবকেরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, খেলার মাঠ ও পার্কের অভাব শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে, তাই এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
এলাকার প্রবীণরা জানান, পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশে শিশুদের জন্য নিরাপদ পার্ক এক বিরল সম্পদ। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পার্কটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করবে এবং এটি যেন আর দখলদারিত্বের কবলে না পড়ে। একই সঙ্গে তারা অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকেও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান, যাতে নগরবাসীর মৌলিক বিনোদনের অধিকার রক্ষা পায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা শহরে দ্রুত নগরায়নের ফলে খেলার মাঠ ও শিশু পার্ক দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। ফলে শিশুদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে লক্ষীবাজারের এই দখলমুক্তি উদ্যোগ শহরের জন্য এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সর্বোপরি, লক্ষীবাজারে শিশু পার্ক ফিরিয়ে দেওয়ার এই কার্যক্রম শুধু রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবেই নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়লে নগরজীবন আরও প্রাণবন্ত হবে এবং শিশুদের মুখে হাসি আরও উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠবে।