শুনেছি মরা গাছে ফুল ধরে, আসলেই কি তাই?
তো মরা গাছে ফুল ধরুক বা না ধরুক পটুয়াখালী এলজিআরডি অফিস দীর্ঘ বছর তাদের কর্মতৎপরতায় খানিকটা মৃত, তা তাদের অফিসের সন্মুখে মৃত গাছের ভাস্কর্যগুলো অপসারণ না করিয়েই প্রমাণ করেছে।
যারা নিজেদের অফিসের সৌন্দর্য বর্ধনে লাগানো গাছগুলো নানা কারণে নষ্ট হয়ে গেলে, তা কেটে ফেলে নতুন গাছ লাগাতে উদ্ধত হয় না, তবে বুঝে নিন তাদের হাতে নির্মিত রাস্তাঘাটের অবস্থা কী?
পটুয়াখালী শহরসহ নানা স্থানে খানাখন্দ রাস্তায় কখনো শৈল্পিক চোখে দেখলে মনে হবে আপনি কোন ভিন গ্রহে অবতরণ করেছেন, কল্পনায় ভাবতে পারেন নাসা আপনাকে নভোচারী করে পাঠিয়েছে, এমন একটা নক্ষত্র বা গ্রহে বিচরণ করার জন্য।
কিন্তু আপনার ঘুম ভাঙ্গলে দেখবেন আপনি পটুয়াখালী
র কোন সড়কে ছিটকে পড়ে আছেন। হয়তো আপনাকে সুস্থ্য- অসুস্থ্য কিম্বা তারও বেশি কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাওয়া যেতে পারে, কোন হাসপাতালে বেডে।
এলজিআরডি সড়ক একবার তৈরি করলে তারা মনে করে- এ জনমের শ্রেষ্ঠ কাজটি তারা করেই ফেলেছে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব একেবারে শেষ! না আছে তাদের তাৎক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থা, না আছে ভ্রাম্যমান সড়ক রিপেয়ারিং এর ব্যবস্থা। তাই সড়কের কান্না তাদের চোখে পৌঁছায় না সহজে।
মাঝেমধ্যে বৃষ্টি আর রাতের আধারে তাদের সড়ক নির্মাণ করতে কোথাও কোথাও দেখা যায়, যদিও এই পদ্ধতি আবিষ্কারে এলজিআরডি, রোডস্ এন্ড হাইওয়ে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড এদের মধ্যে কাকে বেছে নিয়ে
পুরস্কার দেয়া হবে; তা
দুর্নীতিতে শ্রেষ্ঠ নির্বাচনে পুরস্কার দেয়া সংস্থাটি দ্বিধায় আছে বলে এখনো তাদের নির্বাচিত করতে পারেনি। তবে তারা এ পুরষ্কারটি পাবার অধিকার নিশ্চয়ই রাখে।
তাই অবিস্মরণীয় প্রবাদ আছে- কোথাও কাজ না করে বিল তুলে নেয়া, সাঁকোই আছে কিন্তু ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে তার বিল তুলে নেয়া, এমন উদাহরণ সরকারি এসব সংস্থা দেশের সড়কসহ নানা উন্নয়নমুখি কর্মকান্ডে বিতর্কিত না করে, কবে থেকে স্বচ্ছতা নিয়ে সত্যিকারের মানুষের সেবায় কাজ করবে এবং জবাবদিহির আওতায় এসে তাদের কোন এক কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় এসে বলবে- “আমি বহু পাপ করেছি এবার আমার দুর্নীতির জন্য কারাগারে একটা সিট বরাদ্দ করুন”!