রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি থেকে উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দারা তাঁদের পুনর্বাসন ও ন্যায্য বিচারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। ‘আমরা বস্তিবাসী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার-ন্যায়বিচার চাই’ এই ব্যানারে তাঁরা জাতীয় শহীদ মিনারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করছেন।
তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
বস্তি উচ্ছেদ নিয়ে সরকারের গৃহীত নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, বারবার উচ্ছেদ করে তাঁদের অসহায় করে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ছে। এই উচ্ছেদের ফলে তাঁদের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, এসব উচ্ছেদের আগে তাঁদের কোনো ধরনের নোটিশ দেওয়া হয় না এবং পুনর্বাসনেরও কোনো ব্যবস্থা করা হয় না। ফলে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক বস্তিবাসী বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বস্তিতে বসবাস করে আসছেন। এখানে তাঁদের জন্ম, এখানেই তাঁদের বেড়ে ওঠা। কিন্তু হঠাৎ করে উচ্ছেদ করে তাঁদের সব কিছু কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা বলেন, বস্তির বেশিরভাগ মানুষই দিনমজুর, রিকশাচালক, গার্মেন্টসকর্মী বা ছোটখাটো ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। উচ্ছেদের পর তাঁদের কোনো কাজ নেই, থাকার জায়গা নেই। ফলে তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
আন্দোলনকারীরা তাঁদের ব্যানারে লেখেন, ‘ঝালকাঠি বাজারের সরকারের কাছে পাওনা শহীদ পরিবারের ক্ষতিপূরণ আদায় ও মিরপুর ডায়নামিক ফ্যাসিস্ট হাসিনা কর্তৃক বাস্তবায়ন চুক্তি বাতিলসহ সব ধরনের প্রতিপাদ গ্রহণসহ সারা দেশে বস্তি পুনর্বাসনের দাবি’। এতে তাঁদের ক্ষোভ ও হতাশার চিত্র ফুটে ওঠে। তাঁরা মনে করেন, সরকারি নীতিতে তাঁদের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে এবং তাঁদের মানবিক অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
বস্তি উচ্ছেদের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা বলেন, তাঁদের এই প্রতিবাদ কেবল নিজেদের পুনর্বাসনের জন্যই নয়, সারা দেশের বস্তিবাসীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্যও। তাঁরা চান, সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করুক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বস্তিবাসীকে উচ্ছেদের শিকার হতে না হয়। তাঁরা বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের এই একটাই দাবি, তিনি যেন তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন এবং তাঁদের সঙ্গে ন্যায়বিচার করেন। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বস্তিবাসী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁরা ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন, যতক্ষণ না তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া হয়। তাঁরা বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছেন এবং তাঁরা বিশ্বাস করেন, সরকার তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে।
তাঁরা মনে করেন, এই আন্দোলন একটি মানবিক আন্দোলন এবং সরকার তাঁদের দাবি মেনে নিয়ে একটি সুষ্ঠু সমাধান দেবে।