পাইকগাছা ও কয়রায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও সাধারণ সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-০৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জননেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
সম্প্রতি দুই উপজেলার আলাদা আলাদা স্থানে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় মাওলানা আজাদ তরুণ প্রজন্মের বিকাশ, তাদের করণীয় এবং আগামী নির্বাচনে তাদের ভূমিকা নিয়ে গভীর আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্ম দেশের ভবিষ্যত নির্মাণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। আমাদের যুব সমাজকে আদর্শ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং তাদের ভোটাধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিকাশে অবদান রাখতে হবে।”
মাওলানা আজাদ আরও বলেন, “ছাত্রশিবির একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন, যা দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করে আসছে। আমরা চাই ছাত্ররা শুধু তাদের স্বার্থ নয়, দেশের স্বার্থে কাজ করুক। তরুণরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং সৎ ও ন্যায়পরায়ণ পথে চলতে আগ্রহী হয়, তাহলে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে এবং ষড়যন্ত্রকারীরা আর কখনও সফল হতে পারবে না।”
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, আগামী নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে তরুণ ভোটাররা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। তিনি সকল ছাত্রকে আহ্বান জানান, তারা যেন ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতন থাকে এবং নিজেদের ভোট শক্তিকে কাজে লাগায়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা দক্ষিণের ছাত্রশিবির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ। সভায় শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত প্রকাশ করেন। তারা বলেন, তারা তরুণ সমাজের জন্য আরও বেশি কার্যক্রম ও সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানাচ্ছেন।
একাধিক বক্তা বলেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শুধু একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলনের নাম, যা শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও আদর্শিক বিকাশে অবদান রাখছে। এই সংগঠন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা, মানবিক কাজ এবং ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।”
মাওলানা আজাদের মতবিনিময় সভায় তরুণরা দেশপ্রেম এবং সামাজিক দায়িত্বের বিষয়ে আরও গুরুত্ব সহকারে ভাবতে উদ্বুদ্ধ হন। তিনি সকল সদস্যকে বলেন, “আপনাদের ভূমিকা কেবল নিজের শিক্ষার জন্য নয়, দেশের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত। ছাত্রজীবন থেকেই দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে নিজেদের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।”
অবশেষে, মাওলানা আজাদ বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ও তার ছাত্র সংগঠন হিসেবে আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে কাজ করে যাব। তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাব। আগামী নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রত্যেক ছাত্র-যুবককে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”