নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মহান স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের আমলে মোট তিনটি জাতীয় বেতন স্কেল সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সময়োপযোগী বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ১১ জুন ২০২৬ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেশের সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেশন এবং অন্যান্য দপ্তর-সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা একটি সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত নতুন পে-স্কেল প্রবর্তনের যে অঙ্গীকার করেছিল, তার বাস্তবায়নের পথে সরকার এগিয়ে যাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এর ফলে তাদের কর্মোদ্যম ও কর্মস্পৃহা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে পরিষদ আশা প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটি জানায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণে জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএনপির একটি গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে ১৯৯১ সালে চতুর্থ জাতীয় বেতন স্কেল এবং ২০০৫ সালে ষষ্ঠ জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়িত হয়।
তবে বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অর্জন ‘সিলেকশন গ্রেড’ ও ‘টাইম স্কেল’ সুবিধা বাতিল করা হয়েছিল। জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে পরিষদ বলেছে, এর মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং কর্মক্ষেত্রে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ আশা প্রকাশ করেছে যে, জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।