পেটের অতিরিক্ত চর্বি বা ‘বেলি ফ্যাট’ শুধু দেখতেই অস্বস্তিকর নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। অনেকেই বিষয়টিকে অবহেলা করেন, আবার কেউ কেউ জিমে গিয়ে বা ব্যায়াম করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে পেটের চর্বি কমাতে হলে শুধু ব্যায়াম নয়, চাই সুষম খাদ্য, ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের সঠিক অভ্যাস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম যেমন হাঁটা, দৌড়, সাইক্লিং, সাঁতার বা যোগব্যায়াম ক্যালোরি খরচ করে এবং পেটের চর্বি দ্রুত কমাতে সহায়ক। পাশাপাশি এটি মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে, বিপাকক্রিয়া বাড়ায় এবং হৃদ্যন্ত্রকে সুস্থ রাখে। চর্বি কমলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে যায়।
পেটের চর্বি বাড়ার পেছনে অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কম ঘুম, মানসিক চাপ ও হরমোনজনিত পরিবর্তন ভূমিকা রাখে। ঘুম কম হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনে বিঘ্ন ঘটে, ফলে খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়। মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা পেটের চর্বি বাড়াতে সহায়ক হয়।
পেটের চর্বি কমাতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
১. ঘুমানোর অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা আগে খাবার খাওয়া শেষ করুন।
২. রাতের খাবার হালকা ও সহজপাচ্য রাখুন।
৩. খাদ্যতালিকায় উচ্চ প্রোটিন ও ফাইবার যুক্ত খাবার রাখুন যেমন—ডিম, দুধ, ডাল, দই, মাছ, মুরগি, সয়া ও সবজি।
৪. পরিমিত ক্যালোরি গ্রহণ করুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
সাদা পাউরুটি, চিপস, মিষ্টি ও সফট ড্রিংকস দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা চর্বি জমার অন্যতম কারণ। এগুলোর বদলে হোল গ্রেইন খাবার, বাদাম ও ফল খাওয়া ভালো। একই সঙ্গে চিনি, অতিরিক্ত ক্যালোরি ও অ্যালকোহল বর্জন করুন এবং ধূমপান পুরোপুরি বাদ দিন।
পেটের চর্বি বাড়লে শুধু পোশাকের সমস্যা নয়, এটি টাইপ-টু ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, হাঁপানি, এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই চর্বি শরীরে প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিন নিঃসরণ করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
সবশেষে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পেটের চর্বি কমানোর মূল চাবিকাঠি। সচেতন খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপমুক্ত জীবন গড়তে পারলেই দীর্ঘমেয়াদে সুফল মিলবে।