ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-তে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে “অবৈধ নিয়োগ ও অদক্ষ কর্মকর্তাদের প্রভাব” নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম।
শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর মতিঝিলস্থ দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক পিএলসি প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের দাবি, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকে হাজার হাজার অদক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং গ্রাহক স্বার্থের পরিপন্থী।
ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সমন্বয়ক আলমগীর হোসেন বলেন, “আমরা চাই ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হোক। যেসব অদক্ষ কর্মকর্তা অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করা না হলে ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে।”
মানববন্ধনে উপস্থিত মুহতাসিম বিল্লাহ, আমির, মতিঝিল থানা পূর্ব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলেন, “গত ১৫ বছরে ইসলামী ব্যাংকে প্রায় ১৮ হাজার অযোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ পেয়েছেন, যাদের অধিকাংশই রাজনৈতিক বিবেচনায় বা প্রভাবশালী মহলের তদবিরে যুক্ত হয়েছেন। এই নিয়োগপ্রাপ্তদের কারণে ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে আসার পর ব্যাংকের নীতিনৈতিকতা ভেঙে পড়েছে। এখন সময় এসেছে সেই ভুলের সংশোধন করার।”
পল্টন থানা জামায়াতে ইসলামী আমির শাহীন আহমদ ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. এম শওকত আলী মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একসময় দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থার প্রতীক ছিল। কিন্তু গত এক দশকের দুর্নীতি ও অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে আজ ব্যাংকের সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ। ব্যাংকের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে অবৈধ নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
মানববন্ধন চলাকালে দিলকুশা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা সার্বিক তৎপরতা চালায়। তবে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান প্রশাসন ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে কিছু অডিট কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তবে, গ্রাহক ফোরামের দাবি- এটি যেন প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন হয় এবং অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।