বরিশালের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বিউটি কমপ্লেক্স ঘিরে জমিজমা ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা কাজী মফিজুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে সম্পত্তি জবরদখল, প্রতারণামূলক দলিল তৈরি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হয়রানি চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
বিউটি কমপ্লেক্সটি শহরের অন্যতম পুরাতন স্থাপনা, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা। জমির একটি বড় অংশের বর্তমান মালিক আশিক চৌধুরী অভিযোগ করেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে ২০১৮ সালে তাঁর পিতাকে ভুল বুঝিয়ে একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করেন কাজী কামাল। এরপর নির্মাণ পরিকল্পনার নামে সম্পত্তির অধিকাংশ নিজের নামে লিখে নেন তিনি।
ভুক্তভোগী আশিকের দাবি, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিলের জন্য তাঁরা আইনি পদক্ষেপ নিলে পাল্টা মামলা ও হুমকি দেওয়া হয়। গত সাত বছরে আশিক চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী আমেনা সুমীর বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১টিতে তাঁরা ইতোমধ্যে খালাস পেয়েছেন। বাকিগুলো এখনও বিচারাধীন।
সম্পত্তি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান। স্থানীয় আদালত ও হাইকোর্টে কিছু ক্ষেত্রে আশিক চৌধুরীর পক্ষে রায় এলেও সম্প্রতি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশিকের স্ত্রীকে বাধা দেওয়ার সময় হেনস্তা ও হুমকির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়, যার লিখিত অভিযোগ থানায় দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই সম্পত্তি নিয়ে নির্মাণকাজ শুরু হলে ২০২০ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন রাস্তা দখল ও অনুমোদনবিহীন কার্যক্রমের অভিযোগে তা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে অবৈধ অংশ উচ্ছেদও করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাজী কামালের পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সবকিছুই বৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিরোধটি আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
আইনি জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা হয়রানির কারণে বিউটি কমপ্লেক্স সংক্রান্ত এই বিরোধ এখন বরিশালের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আদালতের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে এই সম্পত্তির ভবিষ্যৎ মালিকানা ও ব্যবহার।