খুলনার কয়রা উপজেলায় এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ১০৩ কেজি হরিণের মাংস এবং একটি হরিণের মাথাসহ এক চোরা শিকারিকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) দিবাগত রাতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রার সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
আটককৃত ব্যক্তির নাম মিজানুর রহমান (৪৫)। তিনি কয়রার আংটিহারা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি হরিণের মাথা এবং হরিণ শিকারের জন্য ব্যবহৃত প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ ফাঁদও উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটককৃত মিজানুর দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন এলাকায় বন্যপ্রাণী শিকার ও মাংস পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের এই সফল অভিযান বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্রের ওপর একটি বড় আঘাত। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। আটককৃত মিজানুর রহমান ও তার কাছ থেকে জব্দ করা সব জিনিসপত্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কয়রার আন্দারমানিক ফরেস্ট অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের প্রয়োগের দাবি
স্থানীয়দের মতে, কয়রার বিভিন্ন বনাঞ্চলে কিছু অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে হরিণ শিকার ও মাংস পাচারের সঙ্গে জড়িত। এর ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীর সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের এই ধরনের অভিযানকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, হরিণ হত্যা, মাংস বিক্রি বা পরিবহনের দায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই আইনটির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা সম্ভব হবে বলে পরিবেশপ্রেমীরা মনে করেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে বন্যপ্রাণী শিকারের মতো অপরাধ কমে আসবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, “বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার দেশের আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, সুন্দরবনের পরিবেশ এবং প্রাণী রক্ষা করতে বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারি করা গেলে সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করা আরও সহজ হবে।
এই ঘটনার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে আতঙ্কিত হলেও, সচেতন মহল এবং পরিবেশপ্রেমীরা এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।