রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন শ্যামলী শিশুমেলা ও আগারগাঁও চক্ষু হাসপাতালের সামনে এক ঝটিকা মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ছয়জনকে হাতেনাতে আটক করেছে। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল শ্যামলী শিশুমেলা থেকে আগারগাঁও চক্ষু হাসপাতালের দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। মিছিলকারীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দিতে হঠাৎ দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আশপাশের পথচারী ও সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান- সকালে ৭-৮ জন একত্রিত হয়ে যখন জমায়েত হচ্ছিল, ঠিক তখনই পুলিশ এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে তাদের মধ্য থেকে ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান- আটকদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ
ঘটনার সময় মিছিলের রুটে থাকা স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। বাসচালক ও রিকশাচালকরা আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটতে থাকে। সাধারণ পথচারীদের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় এক দোকানদার বলেন- হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে মনে হলো বিস্ফোরণ হয়েছে। দোকানের সামনে মিছিল দেখতে পেয়েছিলাম, এরপরই সব এলোমেলো হয়ে যায়। পরে দেখি পুলিশ সবাইকে ধরছে।
সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা
যদিও মিছিলটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে দলটির কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও আটককৃতদের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ওসি ইমাউল হক জানান- তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, তারা আদৌ রাজনৈতিক দলের কর্মী কি না, কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিল কি না। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সবদিক বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে।
আনুষঙ্গিক তদন্ত ও মামলা প্রক্রিয়াধীন
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ককটেল বিস্ফোরণ ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হতে পারে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
রাজধানীতে জনবহুল এলাকায় এমন ঝটিকা মিছিল এবং বিস্ফোরণের ঘটনা নগরবাসীর জন্য নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। যদিও তাৎক্ষণিক পুলিশি পদক্ষেপে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।