চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আবুল কালাম আজাদ (২৮) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ফতেপুর ইউনিয়নের বাহির মল্লিকপুর এলাকায় এই ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল কালাম আজাদ গোমস্তাপুর উপজেলার নয়াদিয়াড়ী গ্রামের বাসিন্দা এবং সাদেক আলীর ছেলে। তিনি রাজধানী ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
দাফনে অংশ নিতে ফিরছিলেন বাড়ি, পথেই ঘটল দুর্ঘটনা
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদ ঢাকায় কর্মরত থাকলেও তার এক আত্মীয় — ফুফু শাশুড়ির মৃত্যুর খবর শুনে তিনি দ্রুত গ্রামে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। জরুরি পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই মোটরসাইকেল চালিয়ে ঢাকা থেকে রওনা দেন। পথিমধ্যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে ফতেপুর ইউনিয়নের বাহির মল্লিকপুর এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, একটি ভ্যান ও একটি ট্রাক বিপরীত দিক থেকে আসছিল। হঠাৎ করেই তিনটি যানবাহনের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আবুল কালাম আজাদ। দুর্ঘটনার তীব্রতায় তার মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী ব্যবস্থা
নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন- ত্রিমুখী সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রেখেছি। ঘাতক যানবাহন শনাক্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শোকের ছায়া এলাকায়
নিহতের মৃত্যুতে নয়াদিয়াড়ী গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার মানুষ এক তরতাজা যুবকের এমন করুণ মৃত্যুকে খুবই বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন সবাই এই হঠাৎ মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ।
দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি, নেই নজরদারি
স্থানীয়দের অভিযোগ, রহনপুর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এখানে যান চলাচলে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বেপরোয়া ট্রাক ও ভ্যান চালনার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। অথচ তেমন কোনো নজরদারি বা ট্রাফিক ব্যবস্থা দেখা যায় না।
এলাকাবাসী দ্রুত এই সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অতিরিক্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।