খুলনা জেলা পরিষদের সামনে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সদর থানাধীন জেলা পরিষদের প্রধান ফটকের কাছে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি অনিক দাস (৩২), পিতা মন্টু দাস, সাং-কালীবাড়ি রোড, খুলনা সদর বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় অনিক দাস হঠাৎ অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীদের গুলির শিকার হন। গুলি করার পর দুষ্কৃতিকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পালানোর সময় তারা একটি ব্যবহৃত রিভলভার ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত অনিককে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অনিকের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গুলি লেগেছে এবং চিকিৎসক দল তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও চিকিৎসকরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, এ ঘটনার পেছনে মাদক ব্যবসা এবং পূর্ব শত্রুতার জটিলতা থাকতে পারে। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র জব্দ করেছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ ধরনের ঘটনা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির প্রতিফলন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। প্রকাশ্যে এমন হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্যই নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাচ্ছে। পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানো না হলে এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটতে পারে।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির ক্ষেত্রে আরো সক্রিয় হতে হবে। মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।”
শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মানুষ প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখলেও বারবার ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনা তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।