“
২৬ নভেম্বর ২০২৫ ৷৷ সকাল ১১:০০ টা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হল, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট
চটকদার বিজ্ঞাপনে সিগারেট বিক্রি বাড়াচ্ছে কোম্পানিগুলো মো. হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, খুলনা প্রতিনিধি, ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন
আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, নিয়মিত অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় এবং কোম্পানিগুলোর চটকদার বিজ্ঞাপনের দাপটে
খুলনায় তামাক ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ফলে জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশ বহুমুখী সংকটের মুখে পড়ছে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নারী-শিশু, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর।
সিগারেট কোম্পানিগুলো শিক্ষার্থী ও তরুণদের টার্গেট করে নতুন কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছে। আকর্ষণীয় প্যাকেজিং, সহজলভ্যতা এবং চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তামাক ব্যবহারে আগ্রহী করে তুলছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে বা শিক্ষার্থীরা বেশি যাতায়াত করে এমন জায়গায় গোপনে প্রচারণা চালাচ্ছে। এ ধরণের বিপণন কৌশল তামাক ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদি এ প্রবণতা বাড়তে থাকে
বাংলা চিউিন
চটকদার বিজ্ঞাপনে সিগারেট বিক্রি বাড়াচ্ছে কোম্পানিগুলো
তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক গুরুতর স্বাস্থ্য সংকটের মুখে পড়বে। বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এ বিষয়ে মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশসমূহ নিম্নে তুলে ধরা হলো:
প্রাপ্ত তথ্য:
তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে পৃথক কোন সভা এবং টাস্কফোর্স কমিটির সভাগুলো নিয়মিত হয় না । উল্লেখ্য ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ এর অক্টোবর পর্যন্ত এই ৩৪ মাসে খুলনায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে মাত্র ৫০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে মাত্র ৬১ জনকে। অথচ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩১ মাসে ৮০১ জনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্তসমুহ ফলোআপ বা মূল্যায়ন না হওয়ায় ফলে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা ও সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হয়।
জরিমানার অর্থ তামাক কোম্পানিগুলো প্রদান করে দেয় ফলে বিক্রেতাগণ বারবার আইন লঙ্ঘনে উৎসাহিত হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের আশেপাশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ের বিষয়ে যথাযথ মনিটরিং এর অভাব রয়েছে।
মূলত দু’টি বহুজাতিক তামাক কোম্পানি শিক্ষার্থী ও কিশোরদের টার্গেট করে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে।
তামাক কোম্পানিগুলোর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে গড়ে তোলা হচ্ছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির স্থান।
তামাক কোম্পানিগুলো দোকান সাজিয়ে দেয়াসহ দোকানীদের নানা ধরণের উপহার সামগ্রী প্রদান করছে।
নিত্যনতুন কৌশলে কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে তামাক ব্যবহারে আগ্রহী করে তুলছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে বা তরুণরা বেশি যাতায়াত করে এমন জায়গায় কোম্পানিগুলো গোপনে প্রচারণা করছে ।
সুপারিশ:
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটিকে সংশোধনের মাধ্যমে শক্তিশালী করা।
আইন লঙ্ঘনে জরিমানার পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনকারীকে কারাদন্ডের বিধান বাস্তবায়ন করা।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিতে কোম্পানির হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে।
আইন লঙ্ঘনে তামাক কোম্পানির ফিল্ড অফিসারের পাশাপাশি অন্যান্য কর্মকর্তাকেও আইনের আওতায় আনা।
তামাক নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র সভা এবং নিয়মিত টাস্কফোর্স কমিটির সভাগুলো করার উদ্যোগ নিতে হবে ।
তামাকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়কারীদেরকে আইনের মাধ্যমে লাইসেন্সিংয়ের আওতায় আনা তামাক নিয়ন্ত্রণে বেসরকারী সংস্থাগুলোকে আর্থিকভাবে অনুদান প্রদান ও পর্যবেক্ষণে সম্পৃক্ত করা।
ফ্লেভার আসক্তিতে তরুণ-তরুণীরা
জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ফ্লেভার সিগারেট
এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, সারাবাংলা ডটনেট
ক্রেতার আসক্তিতে তরুণ-তরুণীরা
বর্তমানে বিশ্বে ধূমপায়ীর সংখ্যা ১২০ কোটির বেশি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সারা বিশ্বে প্রতিবছর মারা যায় ৮৭ লাখ মানুষ। ধূমপান ক্ষতিকর জানার পরও কমছে না ধূমপায়ীর সংখ্যা। আশঙ্কার বিষয় হলো, সিগারেটে তামাকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফ্লেভার। যা মানুষকে আরো অধিক আসক্ত করে তুলছে । ফ্লেভার যুক্ত সিগারেট সাধারণ সিগারেটের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পৃথিবীর অনেক দেশে ফ্লেভার সিগারেট নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশে তা এখনও নিষিদ্ধ
নয়।
দেশে ফ্লেভার যুক্ত সিগারেটের প্রসার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ তরুণ-তরুণীরা এসব সিগারেটে আকৃষ্ট হয়ে উঠছে। একইসঙ্গে কর্পোরেট শ্রেণির অনেকেই এখন সুগন্ধিযুক্ত সিগারেটের দিকে ঝুঁকছে। সিগারেট শ্বাসতন্ত্রের ক্যান্সারের একটি বড় কারণ। এছাড়া মুখগহ্বর, ফুসফুসের অ্যালার্জি ও ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকিও কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলে। ফ্লেভারযুক্ত সিগারেটও এর ব্যতিক্রম নয়।
জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে সুগন্ধি সিগারেট
১১ নভেম্বর
ঝুঁকি : বল
ঢাকা: বর্তমানে বিশ্বে ধূম্রগামীর সংখ্যা ১২০ কোটির বেশি। আর ধূমপানের প্রত্যক্ষ ও বিশ্বে প্রতিবছর মারা যায় ৮০ লাখ মানুষ। ধূমপানে ক্ষতি জেনেও
দায়ী সংষয় লোহানের অনু যুক্ত হয়েে गा। সিটের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন
নতুন ভোক্তা তৈরি করতে তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফ্লেভার সিগারেটে আগ্রহী করে তুলছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ফ্লেভার সিগারেট নিষিদ্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীতে ফ্লেভার সিগারেট ও ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের আলোচনা ও মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশসমূহ নিম্নে তুলে ধরা হলো:
প্রাপ্ত তথ্য:
সাধারণ সিগারেটের মতোই ফ্লেভারযুক্ত সিগারেটও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বেশকিছু ব্র্যান্ডের ফ্লেভার সিগারেটে আপেল, স্ট্রবেরি ও চকলেট স্বাদের ফ্লেভারিং এসেন্স দেয়া হচ্ছে যা আরও বেশি আসক্তি তৈরী করছে।
ফ্লেভার ব্যবহার করে সুকৌশলে নারীসহ তরুণদের ধূমপানে আকৃষ্ট করা হচ্ছে।
তামাক কোম্পানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারীদের এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান ও ইনডোর ইভেন্ট এবং কনসার্ট আয়োজন করছে।
ফ্লেভার দিয়ে যেভাবে কর স্তর নির্ধারণ করা হয় তা তামাক কোম্পানির একটি কৌশল।
বাংলাদেশে বিক্রয় হওয়া অধিকাংশ ফ্লেভারযুক্ত সিগারেট বিদেশি এবং আইন অনুসারে বাংলা সতর্কবাণী নেই।
সুপারিশ :
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে ফ্লেভার সিগারেটকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা।
ফ্লেভার সিগারেটের ক্ষতিকর দিক নিয়ে প্রচারণা জোরদার করা।
গণমাধ্যমকর্মীগণকে তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে আরো বেশী করে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
সুনির্দিষ্ট তামাক কর কাঠামো প্রণয়ন ও সিগারেটের মূল্যস্তর কমিয়ে আনা এবং সুনির্দিষ্ট কর নীতি প্রণয়ন। তামাক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বিদ্যমান আইনগুলোর কঠোর প্রয়োগ জরুরি।