গত মঙ্গলবার বহু প্রতীক্ষিত ‘বাহুবলী: দ্য এপিক’-এর অফিসিয়াল ঝলক প্রকাশ করেছেন নির্মাতারা। ঝলক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ভক্ত-দর্শকদের উচ্ছ্বাস যেন আকাশ ছুঁয়েছে। এতে ফুটে উঠেছে মাহিষ্মতী রাজ্যের জৌলুস, মহাকাব্যিক পরিবেশ আর সেই স্মৃতিময় সব দৃশ্য, যা দর্শকদের মনে করিয়ে দিয়েছে আগের দুটি সুপারহিট চলচ্চিত্র—‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ ও ‘বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন’।
প্রায় এক দশক পর আবারও নায়ক প্রভাস ফিরছেন কিংবদন্তি ‘বাহুবলী’র রূপে। এ কারণেই ভক্তদের আগ্রহ ও উত্তেজনা অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। ঝলক প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে ভক্তরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। কেউ লিখেছেন “দশ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে সেই বাহুবলীকে আবার দেখতে চলেছি।”
২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ মুক্তির পর ভারতীয় সিনেমায় নতুন ইতিহাস রচনা করে। ছবিটি বিশ্বব্যাপী আয় করে প্রায় ৬৫০ কোটি রুপি। এর পরের কিস্তি ‘বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন’ মুক্তি পায় ২০১৭ সালে, যা ১,৭৮৮ কোটি রুপি আয় করে তৎকালীন সময়ে সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল ভারতীয় চলচ্চিত্রে পরিণত হয়। দুটি সিনেমার সাফল্যের কারণে দর্শকদের কাছে ‘বাহুবলী’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ঘটনার মতো হয়ে উঠেছে।
নতুন অধ্যায় ‘বাহুবলী: দ্য এপিক’ আগের চেয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে হাজির হতে চলেছে। ছবিটির দৈর্ঘ্য রাখা হয়েছে ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিট। এটি কোনো সাধারণ এক্সটেন্ডেড ভার্সন নয়, বরং একটি অবিচ্ছিন্ন মহাকাব্যিক গল্প বলার প্রয়াস। যেখানে সাধারণত চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, সেখানে এত দীর্ঘ সময়ের কাহিনি দর্শকদের কাছে হবে এক নতুন অভিজ্ঞতা।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ভিন্নধর্মী প্রচেষ্টা দর্শকদের ধৈর্য, মনোযোগ ও আবেগের নতুন পরীক্ষায় ফেলবে। তবে এস. এস. রাজামৌলী যেভাবে আগের দুটি সিনেমায় বৈশ্বিক দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন, তাতে এই নতুন অধ্যায়ও যে দর্শকদের মন জয় করবে, তা নিয়েও আশাবাদ প্রবল।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৫ মুক্তি পাবে ‘বাহুবলী: দ্য এপিক’। শুধু ভারত নয়, বিশ্বব্যাপী এই মুক্তি ঘিরে চলছে তীব্র আগ্রহ ও প্রতীক্ষা। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বড়পর্দায় দেখা যাবে সেই মহাকাব্যিক কাহিনি যা হয়তো ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন ইতিহাস যোগ করবে।