ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো পত্রিকায় গভীর রাতে সংঘটিত হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সাংবাদিকদের ওপর হেনস্থার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন, বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম। সংগঠনটি বলেছে, এটি কেবল দুটি সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের মূল চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।
শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদ ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশন বলেন, “গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সত্য প্রকাশ এবং জনস্বার্থ রক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে। এই গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেওয়া গভীরভাবে নিন্দনীয়, বেদনাদায়ক এবং অগ্রহণযোগ্য।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার ঘটনায় অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্বাধীন গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষায় সরকারের কার্যকর ও দৃঢ় ভূমিকারও আহ্বান জানানো হয়।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নেতারা উল্লেখ করেন, “গণমাধ্যমের ওপর এমন হামলা সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়ংকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তাই আমরা দেশের সব সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।”
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক এই হামলা শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, দেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক অঙ্গনকেও লক্ষ্য করে। তাই সাংবাদিকরা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা তাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একজোট হয়ে কাজ করতে হবে।
এদিকে, ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম ভবিষ্যতে এসব হামলার প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি, মানববন্ধন, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিকি আয়োজনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিরও পরিকল্পনা করেছে। সংগঠনটি দেশের সব সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজকে এসব কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর এই ধরনের সহিংসতা এবং হুমকি শুধু মিডিয়াকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এটি জাতির গণতান্ত্রিক চেতনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও শক্তিশালী প্রতিরোধ ছাড়া স্বাধীন গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।