গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলা, হুমকি ও দমনমূলক তৎপরতার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য। সংগঠনটির নেতারা এসব হামলাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের নেতারা বলেন, দেশের গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের চাপ, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গণমাধ্যম কার্যালয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চর্চা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি। কিন্তু বারবার হামলা, হুমকি ও হয়রানির মাধ্যমে এই দুই ক্ষেত্রকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, এসব ঘটনায় জড়িতদের অনেক ক্ষেত্রেই চিহ্নিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যা হামলাকারীদের আরও উৎসাহিত করছে।
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের নেতারা বলেন, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলা কেবল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং জনগণের জানার অধিকার এবং সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদকে আঘাত করে। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আগামী দিনে প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন, সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংহতি কার্যক্রম। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জোরদারের দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতি রক্ষায় প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের পক্ষ থেকে দেশবাসী, প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এসব কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।