বরগুনার আমতলী উপজেলায় প্রায় ছয় ফুট দৈর্ঘ্যের এক বিশাল দাঁড়াশ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার আমতলী সদর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আজাদ মৃধার বাড়িতে। পরিবারের সদস্যরা হঠাৎ করে বাড়ির আঙিনায় বিশাল আকৃতির সাপটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানানো হয় প্রাণী কল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠন “Animal Lovers of Patuakhali”-কে।
সংগঠনের বন্যপ্রাণী ও সাপ উদ্ধার কর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ রনি ও কাউসার ওরফে হৃদয় ভাই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। উদ্ধার করা দাঁড়াশ সাপটি আকারে প্রায় ছয় ফুট দীর্ঘ হলেও এটি মানুষ বা গৃহপালিত পশুর জন্য কোনো হুমকি নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁড়াশ সাপ মূলত ইঁদুর খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং কৃষকের ফসল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী, কোনো বন্যপ্রাণী ধরা, হত্যা বা নির্যাতন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, সাপ দেখে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া উচিত, যাতে প্রাণীটি নিরাপদে উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া যায়।
প্রাণী কল্যাণ সংগঠনের প্রতিনিধি ইউসুফ রনি জানান, “দাঁড়াশ সাপ একেবারেই নিরীহ। এটি মানুষের কোনো ক্ষতি করে না বরং পরিবেশের জন্য উপকারী। মানুষ যদি সচেতন হয়, তাহলে অযথা সাপ নিধন বন্ধ করা সম্ভব।”
এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, আগে তারা দাঁড়াশ সাপকে ভয় পেতেন, কিন্তু এখন এর উপকারিতা সম্পর্কে জানার পর তারা সাপ হত্যা থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি বন্যপ্রাণীর ভূমিকা রয়েছে। সাপ তার মধ্যে অন্যতম। তাই সবাইকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।