রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র প্রধান কার্যালয়ে আজ বুধবার অগ্নি নির্বাপণ মহড়া (ফায়ার ড্রিল) অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অগ্নিকাণ্ডের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কীভাবে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা যায় এবং কীভাবে দ্রুত সুরক্ষিত স্থানে সরে যাওয়া যায় তা অনুশীলনের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়েছে। মহড়ায় ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি বিশেষজ্ঞ দল অংশ নেয়। তারা প্রাথমিকভাবে অগ্নি নিয়ন্ত্রণের কৌশল, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) ব্যবহারের নিয়ম, ধোঁয়া ও আগুন থেকে সুরক্ষিতভাবে বের হওয়ার উপায় এবং দুর্ঘটনার সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেন।
মহড়ার সময় একটি কৃত্রিম অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। হঠাৎ অ্যালার্ম বেজে উঠলে কর্মীরা দ্রুত সিঁড়ি ও জরুরি নির্গমন পথ ব্যবহার করে নির্ধারিত খোলা স্থানে অবস্থান নেন। এতে বোঝা যায়, কর্মীরা পূর্বপ্রস্তুত ও নির্দেশনা মেনে অল্প সময়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম।
ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলেন, দেশের আর্থিক খাতের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সোনালী ব্যাংক সবসময় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। অগ্নি নির্বাপণ মহড়া সেই উদ্যোগেরই একটি অংশ। তারা আরও জানান, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা মহড়ার সফল আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
এছাড়া, মহড়ায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ অভিজ্ঞতা তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। হঠাৎ কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তারা আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
অগ্নি নির্বাপণ মহড়ার মধ্য দিয়ে সোনালী ব্যাংক কর্মীদের সচেতনতা ও দক্ষতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়মিত মহড়া শুধু ব্যাংক নয়, দেশের সব প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।