পরিবারের সবার চোখে অশ্রু আর মনের গভীরে প্রার্থনা- এই দৃশ্যের মধ্য দিয়েই বিদেশে কর্মস্থলে ফিরে গেলেন মিরাজনগরের আনোয়ার হোসেনের বড় ছেলে মোঃ দেলোয়ার হোসেন ফরহাদ। বাংলাদেশে তিন মাসের ছুটি কাটিয়ে আবারও প্রবাস জীবনের পথে পা বাড়ালেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। নিজের ঘামঝরা পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি শুধু পরিবারের ভরণপোষণই নয়, গ্রাম ও সমাজের কাছেও একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। কয়েক মাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসে তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, আত্মীয়স্বজনদের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় সমাজকর্মেও অংশ নেন।
বিদেশে ফেরার মুহূর্তে তাকে বিদায় জানাতে বাড়ির আঙিনায় ভিড় জমায় স্বজন ও প্রতিবেশীরা। পরিবারের সদস্যরা জানান, ফরহাদের বিদেশ যাওয়া তাদের জন্য আনন্দ ও দুঃখের মিশ্র অনুভূতি তৈরি করে। একদিকে প্রিয়জনকে বিদায় জানানোর কষ্ট, অন্যদিকে প্রবাসে গিয়ে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশা।
ফরহাদ বিদায়ের আগে অপরাধ চক্রের সাংবাদিককে বলেন- বিদেশে কাজ করা সহজ নয়। পরিবার ও দেশের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তবুও নিজের পরিবারকে স্বচ্ছল জীবনে রাখা এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারছি, এটিই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।
প্রতিবেশীরা জানান, ফরহাদ একজন ভদ্র, সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। প্রবাস জীবনের অর্জিত অর্থ তিনি সর্বদা পরিবারের কল্যাণে এবং সমাজের উপকারে ব্যয় করেন। তার এভাবে বিদেশে যাওয়া কেবল একটি পরিবারের নয়, বরং এলাকার জন্যও গর্বের বিষয়।
উল্লেখযোগ্য হলো, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান অপরিসীম। প্রতি বছর প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে পরিবারকে স্বচ্ছল করার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করছেন। ফরহাদের মতো হাজারো তরুণ বিদেশে গিয়ে পরিবার ও দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন।
পরিবারের সদস্যরা ফরহাদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ কর্মজীবনের জন্য সকলের দোয়া কামনা করেছেন। তারা বিশ্বাস করেন, তার এই পরিশ্রম একদিন তাদের পরিবারকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখবে।
সার্বিকভাবে ফরহাদের বিদেশে ফেরা গ্রামে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। বিদায়ের মুহূর্তের অশ্রুভরা দৃশ্য সকলকে নাড়া দিয়েছে। তবে তার পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার প্রত্যাশায় সবাই প্রার্থনা করছে- আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখেন।