রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-০৮ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীর নেতৃত্বে গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি.) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই গণসংযোগে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময়, আলোচনা এবং মতবিনিময় করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন কর্মী-সমর্থক নিয়ে তিনি শাপলা চত্বর থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। নির্ধারিত রুট ছিল শাপলা চত্বর মোড় হয়ে দিলকুশা, আরামবাগ এবং দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত। পথচারী ও দোকানিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তিনি সাধারণ মানুষের সমস্যার খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিদের মধ্যে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ডাকসুর ফাতিমা তাসনিম ঝুমা। তিনি বলেন- জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো এবং তাদের মতামত শোনা একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতের রাজনীতিকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে।
গণসংযোগ চলাকালে শরিফ ওসমান হাদি এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “আমি দল-মত নির্বিশেষে জনগণের সেবা করতে চাই। কোনো দলের হয়ে রাজনীতি করার চাইতে জনগণের পাশে থেকে কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য। তবে জনগণের স্বার্থে যদি কোনো রাজনৈতিক দল আমাকে কাছে টানে, তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করব।” তিনি আরও দাবি জানান যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যাতে জনগণের প্রকৃত মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয়।
এ সময় মতিঝিল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। পুলিশ জানায়, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়রা জানান, এই ধরনের গণসংযোগ কার্যক্রম জনগণের সঙ্গে প্রার্থীদের সেতুবন্ধন তৈরি করে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি সম্প্রতি মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। নির্বাচনে সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার এই উদ্যোগ আগামী নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
সার্বিকভাবে শনিবারের এই গণসংযোগ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। মতিঝিল এলাকায় কর্মসূচি ঘিরে তেমন ভিড় না থাকলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র।