ঢাকা মহানগরীর লুৎফুর রহমান লেনসহ সুরিটোলা থানা, বংশাল এলাকার বিভিন্ন অলিগলি ও সড়কের পাশে প্রতিদিনই জমছে ময়লা-আবর্জনা। সিটি কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা রাখার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। অনেক এলাকায় খোলা জায়গায়, ড্রেনের ধারে বা রাস্তার পাশে ময়লা ফেলা হচ্ছে নির্বিচারে। এর ফলে পুরো এলাকাজুড়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিতভাবে ময়লা অপসারণে গাফিলতি করছে। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই আবর্জনা স্তূপ আকারে জমে থাকে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব ময়লা পচে গিয়ে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়। ফলে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে এবং নোংরা পানি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে ছোট শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যত্রতত্র ময়লা জমে থাকলে কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবর্জনার স্তূপে জন্ম নেওয়া মশা, মাছি ও অন্যান্য জীবাণু দ্রুত মানুষের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ অজান্তেই বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।
পরিবেশবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে আবর্জনা ফেলে রাখলে শহরের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাতাস ও পানির দূষণ বৃদ্ধি পাবে, যা শুধু মানুষের স্বাস্থ্য নয়, পুরো জীববৈচিত্র্যকেও প্রভাবিত করবে।
সচেতন মহল মনে করেন, শুধু সিটি কর্পোরেশন নয়, সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে ময়লা ফেলা বন্ধ করা, সময়মতো ময়লা অপসারণ নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কার্যকর তদারকি করা জরুরি। পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করলে শহরের আবর্জনা সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
লুৎফুর রহমান লেন, সুরিটোলা থানা, বংশাল এলাকা এখন শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, শহরের সৌন্দর্য ও জীবনযাত্রার মানকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। তাই প্রশাসন অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হবে।