জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে আমরা নতুন স্বৈরাচার, লুটেরা, চাঁদাবাজ কিংবা হিন্দুস্তানের দালাল চাই না।
তার মতে, জুলাই সনদ আমাদের ভবিষ্যৎ দেশের নির্মাণের পথপ্রদর্শক এবং এই সনদকে আইনি ভিত্তির মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে। না হলে যেকোনো শাসকদল ক্ষমতা পেলে এটি অস্বীকার করে দেশের গণতন্ত্র দুর্বল হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আইনি ভিত্তি ছাড়া জুলাই সনদের মূল্য হবে ভাঙ্গারি দোকানের পুরাতন বাতিল কাগজের মতো।”
২ অক্টোবর পল্টনস্থ জাগপার কার্যালয়ে শ্রমজীবী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ প্রধান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “সরকারি ছুটির দিনে এত বিচিত্র পেশার মানুষ এখানে এসেছে—ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী থেকে শুরু করে বাসচালক, পরিচ্ছন্নকর্মী, গার্মেন্টসকর্মী এবং পত্রিকার হকার পর্যন্ত। এটাই বাংলাদেশের আসল চিত্র।”
তিনি আরও বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভোটের মূল্য সমান, তা আপনার মাসিক আয় ১০ লাখ হোক বা ১০ হাজার। তাই ভোটের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান। এতে প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব থাকবে এবং গণতন্ত্র জোরদার হবে।
জাগপার মুখপাত্রের কথায়, দেশের রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই অসংখ্য সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “খুনি হাসিনাকে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করা দরকার। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের অপরাজনীতিকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ভারতীয় ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করাও আমাদের সকালের কাজ।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি আমরা না করলেও এই দেশে বাস করি। তাই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
এর আগে জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন সভার সূচনা বক্তব্যে দলের সাতটি দাবি উপস্থাপন করেন। এছাড়াও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষরা ওই সাতটি দাবি নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
জাগপার নেতাদের এই বক্তব্য দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তারা কিভাবে এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবেন, সেটাই নজরকাড়া বিষয়।