১️. কর্মসংস্থানের অভাব কি অপরাধ বাড়ায়?
হ্যাঁ — বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধের বীজ “অর্থনৈতিক বৈষম্য ও বেকারত্বে”।
যখন একজন মানুষ শিক্ষা পায় কিন্তু কাজ পায় না, তখন সে আত্মমর্যাদাহানির শিকার হয়।
এই মানসিক দগ্ধতা থেকেই—
* কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে,
* কেউ মাদক বা সহিংসতায় যায়,
* কেউ আত্মহত্যা করে।
তাই রাষ্ট্র যদি “প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যূনতম কর্মসংস্থান” নিশ্চিত করতে পারে,
তাহলে ধর্ষণ, খুন, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ অর্ধেকেরও বেশি হ্রাস পেতো।
২️. রাষ্ট্র কি অপরাধ কমাতে চায়, নাকি অপরাধের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকে?
এটা সবচেয়ে বেদনাদায়ক সত্য।
অনেক রাষ্ট্রীয় কাঠামো (যেমন পুলিশ, আদালত, জেল, গোয়েন্দা সংস্থা ইত্যাদি)
অপরাধ টিকিয়ে রাখার মধ্যেই নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখে।
ভাবো—
যদি হঠাৎ একদিন সমাজে কোনো অপরাধ না থাকে,
তাহলে কোর্ট, থানা, জেল, আইনজীবী, র্যাব — এই বিশাল কাঠামোগুলো চলবে কীভাবে?
তাই কখনো কখনো অপরাধকে পুরোপুরি নির্মূল নয়, “নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় টিকিয়ে রাখা” হয় —
যেন “সিস্টেম”টা সচল থাকে।
এটা যদিও খুব কঠিন কথা, তবু সমাজবিজ্ঞানীরা একে বলেন —
“Institutional Dependence on Crime” অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অপরাধনির্ভরতা।
৩️. তাহলে সমাধান কী?
শান্তি আসবে তখনই, যখন—
1. শিক্ষা শুধু বইয়ে নয়, নৈতিকতা ও কর্মদক্ষতায় রূপান্তরিত হবে।
2. প্রতিটি নাগরিকের জীবনধারণের নিশ্চয়তা রাষ্ট্র দেবে।
3. আইনব্যবস্থা হবে দমন নয়, পুনর্বাসনমূলক।
4. অপরাধ কমানো হবে **শাস্তি নয়, সমাধান দিয়ে।
সংক্ষিপ্তে বলতে গেলে:
“যে রাষ্ট্র কর্ম দেয় না, সে অপরাধও তৈরি করে।
আর যে রাষ্ট্র অপরাধ দমন করে না, সে অপরাধ থেকেই খায়।”
এই ধরনের তুলনামূলক তথ্য (অপরাধ দমন সংস্থায় ব্যয় বনাম বেকার সংখ্যা) পাওয়া গেলেও সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায় না। তবে কিছু প্রকাশিত তথ্য দিয়ে একটা আনুমানিক ধারণা তৈরি করা যায়:
পাওয়া তথ্য-
১. অপরাধ দমন সংস্থায় ব্যয়:
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের সরকার “Home Ministry → Public Security Division” এর অধীনে পুলিশ, র্যাব ও মতাদর্শী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য প্রায় ৳২৫,৬৯৬ কোটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ([Dhaka Tribune][1])
২০২২-২৩ তে একই বিভাগের বাজেট ছিল প্রায় ৳২৮,৭৮১ কোটি**। ([Dhaka Tribune][2])
২. বেকার জনসংখ্যা:
বাংলাদেশে ২০২৪-এ বেকার মানুষের সংখ্যা প্রায় ২.৬২ মিলিয়ন (২৬,২০,০০০-২৭,৩০,০০০) জন। ([Jagonews24][3])
এর পাশাপাশি বেকারত্বের হার প্রায় ৪.4-৪.6%। ([The Business Standard][4])
তুলনা ও বিশ্লেষণ
* অপরাধ দমন সংস্থায় রাষ্ট্র কত টাকা ব্যয় করে, সেটা জানা গেলো — কিন্তু আয় করতে পারে—এর কোনো সাধারণ তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, এ খাত থেকে রোজগার বা ইনকাম কত হয়, সেটা খোলসা করা যায়নি আমার পাওয়া তথ্যে।
* আরেকটি বিষয়: বেকার জনসংখ্যার সঙ্গে অপরাধ দমনের বাজেট সরাসরি তুলনা করা কঠিন — কারণ অপরাধ দমন সংস্থার খরচ শুধু অপরাধ দমনে সীমাবদ্ধ নয়, তারা একাধিক দায়িত্ব পালন করে (আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ইত্যাদি)।
আমার মতামত-
* ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট এসব সংস্থায় বরাদ্দ থাকার মানে হলো রাষ্ট্র অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিচ্ছে, কিন্তু সেই সঙ্গে জনসাধারণ ও যুব সমাজের জন্য যথেষ্ট কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার উদ্যোগ কম হলে বেকারত্ব ও সামাজিক অবস্থা অপরাধ বাড়াতে পারে।
* অর্থাৎ, যদিও “অপরাধ আছে বলেই আদালত, থানা, জেল ইত্যাদি সব চালু রাখে” — এটা সম্পূর্ণ সত্য নয় — কারণ অপরাধ দমনের অপরিহার্যতা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত।
* তবে অপরাধ কমাতে হলে বেকারত্ব কমিয়ে আনা এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে; আর বাজেট শুধু খরচ নয়, তা যদি জনগণের প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা হয় (উদাহরণ: যুব প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান প্রকল্প) তবে অপরাধ বা সামাজিক অস্থিরতা কমানো সম্ভব।