আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, অমুসলিমদের সঙ্গে হাত মেলানো বা তাদের স্পর্শে মুসলমানদের ওজু ভেঙে যায়। তবে শরীয়তের আলোকে এ ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
কুরআন ও সহিহ হাদিসে ওজু ভাঙার কারণ হিসেবে উল্লেখ আছে প্রস্রাব, পায়খানা, গভীর নিদ্রা, গ্যাস নির্গমন এবং রক্ত বা পুঁজ বের হওয়া। কিন্তু কোথাও অমুসলিমদের স্পর্শকেই ওজু ভাঙার কারণ বলা হয়নি।
বিশ্বখ্যাত মুফাসসির ও ইসলামী পণ্ডিতরা ব্যাখ্যা করেছেন, কুরআনের সুরা তাওবার আয়াতে যেটি ‘নাজিস’ বা অপবিত্র হিসেবে উল্লেখ আছে, তা বিশ্বাসগত অর্থে এবং শরীর বা ছোঁয়ার ক্ষেত্রে নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে বহুবার অমুসলিমদের সঙ্গে লেনদেন, বন্ধুত্ব এবং সামাজিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায় যা এ ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত।
এছাড়া খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জেরুজালেম বিজয়ে অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা ও ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ব্যবসায় অংশগ্রহণ এ বিষয়ে স্পষ্ট দৃষ্টান্ত।
কুরআন (সূরা মুমতাহিনা ৬০:৮) মুসলমানদের অমুসলিমদের সঙ্গে ন্যায়পরায়ণ ও সদাচরণ করার নির্দেশনা দেয়, বিশেষ করে যারা যুদ্ধ করে না কিংবা অনুপ্রবেশ ঘটায় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসলাম কখনো মানুষকে বিভক্ত করতে চায় না বরং সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়। অমুসলিমদের স্পর্শে ওজু ভাঙার ভ্রান্ত ধারণা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং বাস্তব জীবনের সহাবস্থানের পথে বাধা।
সুতরাং মুসলমানদের উচিত কুসংস্কার পরিহার করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ এবং মানবিক সহাবস্থানের সমাজ গড়ে তোলা।