দেশের একজন বরেণ্য আলেম, মুহাদ্দিস ও ফকীহ মুফতি আহমদুল্লাহ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, রোববার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রবীণ আলেম। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮১ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, চার মেয়ে ও অগণিত ছাত্র-শিষ্য, অনুসারী এবং শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
মরহুমের জানাজার নামাজ আজ রাত ৯টায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।
আলেমে দীন, শিক্ষক, ফকীহ
মুফতি আহমদুল্লাহ দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। সর্বশেষ তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তিনি ১৯৪১ সালের ১ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার নাইখাইন গ্রামে এক ধর্মভীরু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে জিরি মাদরাসায় কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন এবং পরে একই মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন, যেখানে প্রতিটি পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন।
আন্তর্জাতিক মানের ইসলামী শিক্ষা
১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের জামিয়া আশরাফিয়া, লাহোর থেকে পুনরায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন এবং সে সময়কার বিশ্ববিখ্যাত আলেম মাওলানা ইদরিস কান্ধলভি (রহ.) ও মাওলানা রসুল খান (রহ.)-এর সাহচর্য লাভ করেন।
পরবর্তী বছর তিনি মুলতানের খাইরুল মাদারিসে যুক্তিবিদ্যা ও কালাম বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলেমদের কাছে অধ্যয়ন করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে দারুল উলুম করাচিতে ইফতা বিভাগে ভর্তি হয়ে পাকিস্তানের তৎকালীন মুফতিয়ে আজম আল্লামা শফি উসমানি (রহ.)-এর কাছ থেকে ফিকহে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
জীবনভর শিক্ষকতা ও দ্বীনি খেদমত
দেশে ফিরে তিনি ১৯৬৮ সালে জিরি মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং টানা ২৩ বছর সেখানেই অধ্যাপনায় যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে মাওলানা ইউনুস (রহ.)-এর আহ্বানে পটিয়া মাদরাসায় যোগ দিয়ে সেখানে ৩০ বছরেরও বেশি সময় সিনিয়র মুহাদ্দিস ও মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের শায়খুল হাদিস ও সদরের মুহতামিম নিযুক্ত হন।
ইসলামী জ্ঞানচর্চায় অবিস্মরণীয় অবদান
তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ছিল ইলমে দ্বীন, তালিম ও তাজকিয়ার খেদমতে নিবেদিত। হাজার হাজার তালিবে ইলম তার কাছ থেকে হাদিস, ফিকহ ও ইসলামী দর্শনের জ্ঞান লাভ করেছেন, যারা আজ দেশ-বিদেশে ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত।
তার ইন্তেকালে দেশের আলেম সমাজ ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।