দেশের বিভিন্ন সড়কে যাত্রীবাহী বাসগুলো ধীরে ধীরে “মালের বাহি বাসে” পরিণত হচ্ছে—এমন অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। যাত্রী পরিবহনের পরিবর্তে অতিরিক্ত মালামাল বহন, যত্রতত্র থামা এবং বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে ভোগান্তি ও ঝুঁকি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক বাসে যাত্রীদের চেয়ে মালামালের গুরুত্ব বেশি দেওয়া হচ্ছে। এতে করে যাত্রীরা গাদাগাদি করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন, এমনকি অনেক সময় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় যাত্রা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার রুটগুলোতে এই সমস্যা আরও প্রকট।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, পরিবহন সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু চক্র “সমিতি”র নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে। বিভিন্ন স্ট্যান্ড ও সড়কের নির্দিষ্ট পয়েন্টে বাস থামিয়ে আদায় করা হচ্ছে অবৈধ টাকা, যার কোনো বৈধ রসিদ বা নিয়ম নেই। এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে, আর সেই চাপ পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের উপর।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনিক নজরদারির অভাব এবং কার্যকর নির্দেশনার অনুপস্থিতির কারণেই এই নৈরাজ্য দিন দিন বেড়ে চলেছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় বাস মালিক ও চালকদের মধ্যে দায়িত্বহীনতা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কঠোর তদারকি, অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ এবং যাত্রীবাহী বাসে মাল পরিবহন নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—এভাবে আর কতদিন চলবে? জনগণ কি শুধুই শোষণের শিকার হয়ে থাকবে, নাকি কোনোদিন মিলবে স্বস্তি ও নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা?