
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির ছুরিকাঘাতে দাদি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর দাদা। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার খামার পবনতাইড় গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহত ফেরেজা বেগম (৬৬) ও গুরুতর আহত আব্দুল করিম (৭১) ওই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত নাতিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারটিতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বুধবার দুপুরে অভিযুক্ত নাতি ধারালো ছুরি নিয়ে তাঁর দাদা-দাদির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তাঁরা দুজনেই গুরুতর আহত হন। হামলায় ফেরেজা বেগমের হাতের একটি কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া তাঁর গাল ও গলায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে আব্দুল করিমও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন।
আহতদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁদের সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফেরেজা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে আব্দুল করিম ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত নাতিকে হাতেনাতে আটক করেন। খবর পেয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। অভিযুক্ত নাতিকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন বর্বরোচিত ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।







