বাংলা গানের কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের ৭২তম জন্মদিন উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজন করা হলো বিশেষ অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ আসরে শিল্পীর সম্মানে ছিল সঙ্গীত, নৃত্য, আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত লেখক ও রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে সাবিনা ইয়াসমিনের জীবনী ও কর্মজীবনের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
এরপর মঞ্চে উঠেন স্বয়ং সুরের রাণী। ‘সুন্দর সুবর্ণ রূপসী লাবণ্য’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন তিনি। একে একে পরিবেশন করেন নিজের দীর্ঘ সংগীতজীবনের জনপ্রিয় কয়েকটি গান— আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো, তুমি ফুলকে বলো ঝরে যেতে, শত জনমের ভাগ্য তুমি আমার জীবনে এলে সহ আরও অনেক কালজয়ী সৃষ্টি। প্রতিটি পরিবেশনার পর উপস্থিত শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে অনুরোধ জানালে তিনি আবেগঘনভাবে সাড়া দেন।
অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা ‘গীতিময় সেই দিন চিরদিন আর এলো না’ গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। এছাড়া সাবিনা ইয়াসমিনকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা প্রদান করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। এ সময় মঞ্চে ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ, সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমানসহ আরও অনেকে।
দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুরশীদ আলম, খন্দকার রফিকুল আলম, আবিদা সুলতানা, নকীব খান, আগুন, পার্থ বড়ুয়া প্রমুখ।
ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “বাংলা গান মানেই আবেগ আর স্মৃতির ভুবন। সেই ভুবনে সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠ অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে আসছে।”
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার বক্তব্যে বলেন, “যার গান প্রজন্মকে শিহরিত করেছে, সেই সুরের পাখি সাবিনা ইয়াসমিনকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।”
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন।