বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক স্মরণীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গুণিজন সংবর্ধনা–২০২৫। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকেল ৩টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি ও আলোচনায় অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে বর্ণাঢ্য।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম সরওয়ার। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি সংগঠনের ২৭ বছরের পথচলা তুলে ধরেন এবং সমাজ ও মানবকল্যাণে সংগঠনের অবদানকে স্বীকৃতি দেন।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত প্রশাসক ও সমাজসেবক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী। তিনি বলেন- একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ ২৭ বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতা কোনো সহজ কাজ নয়। সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবকল্যাণে কাজের মাধ্যমে এই সংগঠন তার অবস্থানকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি ও গবেষক মাহমুদুল হাসান নিজামী। তিনি বলেন- একটি প্রতিষ্ঠান শুধু সময়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এর কার্যক্রম, আদর্শ ও অবদানই প্রমাণ করে প্রতিষ্ঠান কতটা সার্থকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আমিরুল ইসলাম অধ্যাপক ও ছাত্র উপদেষ্টা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধ্যাপক অনিক রহমান বুলবুল, যিনি কবি, সংগঠক, সম্পাদক ও ছড়াকার হিসেবেও সমধিক পরিচিত। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার প্রসার, সংস্কৃতিচর্চা ও সমাজসেবায় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রাব্বানী সরকার। তিনি বলেন- এ ধরনের আয়োজন কেবল স্মরণ নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার একটি দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠান শেষে গুণিজনদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তাঁদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। সংবর্ধিতরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি তাঁদের আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গুণিজন সংবর্ধনার পুরো আয়োজন ছিল বর্ণাঢ্য, তাৎপর্যপূর্ণ এবং শিক্ষণীয়। উপস্থিত অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ একে মানবকল্যাণে অব্যাহত অগ্রযাত্রার প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে দেখেছেন।