কক্সবাজার সদর থানার একটি বিশেষ আভিযানিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র ও অবৈধ সামগ্রীসহ দুইজন আসামীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অদ্য ১৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর থানার একটি দক্ষ আভিযানিক টিম দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানটি পরিচালিত হয় কক্সবাজার সদর থানাধীন পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের আলীর জাহাল এলাকায় অবস্থিত মোহাম্মদ আমির ফায়সাল আক্তারের বসতবাড়িতে।
অভিযান চলাকালে বাড়িটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই প্রধান আসামী মোহাম্মদ আমির ফায়সাল আক্তার ও তার সহযোগী মোঃ জাহিদ হোসেনকে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তা সম্ভব হয়নি।
তল্লাশিকালে আসামীদের কাছ থেকে ২টি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ৩টি ধারালো ছুরি, ১০৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ ২৪,০০০ টাকা এবং ২টি নাম্বারবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সকল আলামত আইনানুগভাবে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল, তবে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পেত না। এ অভিযানের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
কক্সবাজার সদর থানার কর্মকর্তারা জানান, মাদক ও অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা জরুরি।