“আমি কাজ করেই চলেছি। সবাই আমার কাছে কিছু না কিছু চায়, কিন্তু আমার প্রয়োজনের কথা কেউ জানতে চায় না। বিনা বেতনে, বিনা স্বীকৃতিতে কাজ করতে করতে আজ আমি যেন নিজের অস্তিত্বটাই হারিয়ে ফেলেছি।”
এভাবেই নিজের মনের গভীর কষ্ট প্রকাশ করেছেন এক কর্মজীবী নারী। তাঁর ভাষায়, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি কখনও মেয়ে, কখনও মা, কখনও বোন, কখনও স্ত্রী, কখনও নানী, দাদী, ভাগ্নি, চাচী, মামী, খালা, ফুফু কিংবা প্রিয় মানুষ—অসংখ্য সম্পর্কের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এত পরিচয়ের ভিড়েও নিজের পরিচয় ও প্রাপ্য সম্মান যেন অধরাই থেকে গেছে।
তিনি আরও বলেন, “আমার নাম আছে, পরিচয় আছে, কিন্তু নিজের বলে কিছুই নেই। মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই নেই, জীবনের নিশ্চয়তা নেই। সবাই আমার শ্রমের মূল্য চায়, কিন্তু আমার কষ্ট, আমার চাহিদা কিংবা আমার স্বপ্নের কথা কেউ জানতে চায় না।”
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পরিবারের দায়িত্ব পালন, কর্মক্ষেত্রে অবদান এবং সামাজিক ভূমিকা রাখতে গিয়ে অনেক নারী নিজের চাওয়া-পাওয়া ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টি উপেক্ষা করতে বাধ্য হন। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে একাকীত্ব, হতাশা ও মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একজন মানুষের শ্রমের ন্যায্য মূল্যায়ন, সম্মান এবং মানসিক সমর্থন নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবারই দায়িত্ব। কারণ প্রতিটি মানুষেরই প্রয়োজন ভালোবাসা, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ।
একটি মানবিক সমাজ গড়তে হলে শুধু মানুষের কাছ থেকে নেওয়া নয়, তাদের প্রয়োজন, অনুভূতি ও অধিকারকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।







