“সংবাদপত্র, সাংবাদিক শ্রমিক ইউনিয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা কোনো বাণিজ্য নয়—এটি আইনসম্মত সাংগঠনিক কার্যক্রম”
বাংলাদেশের সংবিধান, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী একটি দৈনিক পত্রিকা পরিচালনা, সাংবাদিক সংগঠন গঠন, রিপোর্টার নিয়োগ, সদস্য অন্তর্ভুক্তি, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং সাংগঠনিক তহবিল সংগ্রহ সম্পূর্ণ বৈধ ও আইনসম্মত কার্যক্রম।
একটি সংবাদপত্র পরিচালনা করতে সম্পাদক, প্রকাশক, রিপোর্টার, সংবাদকর্মী, অফিস স্টাফ, শ্রমিক ইউনিয়ন, প্রেসক্লাব, ফেডারেশন ও সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হয়। কারণ সংবাদ সংগ্রহ, মুদ্রণ, পরিবহন, অফিস পরিচালনা, আইনি কার্যক্রম ও সাংবাদিকদের সম্মানী প্রদান—এসবই ব্যয় সাপেক্ষ বিষয়।
সুতরাং সাংবাদিক সংগঠন, ইউনিয়ন, ফেডারেশন বা প্রেসক্লাবের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা, সদস্য ফি নির্ধারণ, অনুদান গ্রহণ বা সাংগঠনিক তহবিল গঠনকে “অবৈধ বাণিজ্য” বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য। পৃথিবীর প্রতিটি পেশাজীবী সংগঠন তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বৈধ আর্থিক কাঠামো অনুসরণ করে থাকে।
আমি বিশ্বাস করি—সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের সত্য তুলে ধরা, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও আইনসম্মত দৈনিক পত্রিকা পরিচালনা করতে চাই।
বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন, শ্রম আইন এবং প্রচলিত গণমাধ্যম নীতিমালার আলোকে সাংবাদিক ও সংবাদ শ্রমিকদের অধিকার, সংগঠন ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক অধিকার।
অতএব, সংবাদপত্র পরিচালনার স্বার্থে সাংবাদিক, রিপোর্টার, ইউনিয়ন সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সদস্য ফি বা ব্যাংক হিসাব পরিচালনাকে নেতিবাচকভাবে না দেখে—গণমাধ্যমের উন্নয়ন ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
প্রকাশক ও সম্পাদক
দৈনিক অপরাধচক্র
আমিনা খাতুন