দেশে একটি কার্যকর, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। তারা বলেছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং কার্যকর উদ্যোগ ও দৃশ্যমান পরিবর্তন জরুরি।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদ (Democratic State Council-DSC)-এর উদ্যোগে ‘বিএনপি সরকারের তিন মাস—প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য উঠে আসে।
শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শাসনব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর ও বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা হয়।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যের পথে এগোতে হবে।”
বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ। তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সিপিডির অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও নীতিগত দুর্বলতা তুলে ধরে বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ রাষ্ট্রবিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণে গণতন্ত্রের কাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরেন। কবি মোহন রায়হান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গণতন্ত্রের চর্চার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আমিরুল মোমেনিন মানিক ও সাংবাদিক মাহফুজুল ইসলাম খান গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আব্দুন নূর। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে সকল মত ও পথের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।” অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব বাবর চৌধুরী।
বক্তারা সরকারের গত তিন মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বলেন, কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ দৃশ্যমান হলেও সামগ্রিকভাবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও সুস্পষ্ট, সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারা সুশাসন, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।