দেশজুড়ে মোবাইল ফাইন্যান্স সেবার নামে ভয়াবহ প্রতারণা চালাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র। গ্রাম থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকা—সর্বত্র সাধারণ মানুষ এই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হারাচ্ছেন, অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা বুঝতেই পারছেন না কীভাবে এই প্রতারণা সংঘটিত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভুয়া কল ও মেসেজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে। কখনও তারা মোবাইল ফাইন্যান্স সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দেয়, আবার কখনও বলে—“আপনার নম্বরে ভুল করে টাকা চলে গেছে, অনুগ্রহ করে ফেরত দিন।” অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া এসএমএস দেখিয়ে বলা হয় যে টাকা পাঠানো হয়েছে, যা আসলে সম্পূর্ণ মিথ্যা।
গ্রামের সহজ-সরল মানুষ এই প্রতারণার প্রধান লক্ষ্যবস্তু। তাদেরকে ফোনে বিভ্রান্ত করে মোবাইল হাতে নিতে বলা হয় এবং বিভিন্ন কৌশলে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। অনেক সময় স্থানীয় দোকান বা মোবাইল রিচার্জ পয়েন্ট ব্যবহার করেও প্রতারণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজধানীর গুলিস্তান, বাবুবাজার, সদরঘাট এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে এই চক্র সক্রিয়। এসব জায়গায় প্রতারকরা সুযোগ বুঝে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে বা সহায়তার নামে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেয়।
একজন ভুক্তভোগী জানান—
“আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমার নম্বরে টাকা এসেছে। পরে তারা এমনভাবে কথা বলে যে আমি বিশ্বাস করে ফেলি। কিছুক্ষণ পর দেখি আমার অ্যাকাউন্ট থেকে সব টাকা উধাও।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল সেবার প্রসার বাড়লেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব থাকায় এই ধরনের প্রতারণা বেড়েই চলেছে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন—অপরিচিত কারো ফোনে কোনো তথ্য না দেওয়া, ভুয়া মেসেজে বিশ্বাস না করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের হটলাইনে যোগাযোগ করার জন্য।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ধরনের প্রতারণা রোধে কাজ চলমান থাকলেও এখনো পর্যন্ত চক্রটির মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তবে একটি অনুসন্ধানী টিম ইতোমধ্যে এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ে কাজ শুরু করেছে এবং শিগগিরই তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
সাধারণ মানুষের দাবি—এই ভয়াবহ প্রতারণা চক্র দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে আর কেউ এভাবে প্রতারণার শিকার না হয়।