আজ থেকে নারীদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, যেখানে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে পুরস্কারের ক্ষেত্রে। আইসিসি জানিয়েছে, এবারের টুর্নামেন্টে মোট প্রাইজমানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা প্রায় ১৬৮ কোটি টাকার সমান। এটি আগের বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।
এই বিশাল প্রাইজমানির কারণে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলই খেলার মাধ্যমে বা না খেলে মোটা অঙ্কের অর্থ পাবে। অর্থাৎ, কোনো দল যদি একটিও ম্যাচ না জিততে পারে, তবুও তারা অর্থ পাবে, যা কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি এবারের বিশ্বকাপে কয়েকটি জয় হাসিলের স্বপ্ন দেখছেন। যদিও যদি তা সম্ভব না হয়, তবুও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পাবে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৩ লাখ টাকা।
গ্রুপপর্বে প্রতিটি জয় বাংলাদেশের জন্য আরও ৩৪ হাজার ৩১৪ ডলার যোগ করবে, যা প্রায় ৪১ লাখ ৬১ হাজার টাকার সমান। এরপর সেমিফাইনালে উঠলে পুরস্কারের পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়তে থাকবে। শেষ চারে পৌঁছানো দলের জন্য প্রাইজমানি দাঁড়াবে ১১ লাখ ২০ হাজার ডলার (প্রায় ১৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা)। রানার্সআপ দল পাবে ২২ লাখ ২৪ হাজার ডলার এবং চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য পুরস্কার দাঁড়াবে ৪৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার মতো।
২০২২ সালের নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের অর্থ পুরস্কার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দল পেয়েছিল ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪৪ লাখ ডলারে। রানার্সআপ দলও এবার ২৭৩ শতাংশ বেশি পুরস্কার পাচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপে মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করছে। স্বাগতিক হিসেবে রয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা, আর অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড।
বিশ্বকাপের এই বৃহৎ প্রাইজমানি নারী ক্রিকেটকে আরও প্রোত্সাহিত করবে এবং প্রতিযোগিতার মাত্রাও বাড়াবে। খেলোয়াড়দের জন্য এটি একটি বড় মাইলফলক, যা তাদের পেশাদারিত্ব ও মনোযোগ আরও জোরদার করবে।
নারী ক্রিকেটের বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের মতো দলও এবার নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে, যা দেশের ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এই প্রতিযোগিতায় সাফল্য আসলে দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে তা স্মরণীয় অবদান রেখে যাবে।