বাংলার আদি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ যাত্রাশিল্পের ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে এবং গুণী শিল্পীদের অবদানের স্বীকৃতি জানাতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো “যাত্রা বাঙালির সংস্কৃতির আদি শেকড়চা পৃষ্ঠপোষকতা- তুষার দাস গুপ্ত গুণীজন সম্মাননা ২০২৫”।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যাত্রাশিল্পের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কবি, সাংবাদিক ও বাংলাদেশ যাত্রা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ভিপি বেলায়েত। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক এম এ মজিদ, যিনি যাত্রাশিল্পের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “যাত্রা কেবল একটি বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি আমাদের গ্রামীণ জীবনের দর্পণ, যা সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কর্মী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জনাব শাহ আলম, দৈনিক আজকের সংবাদের হেড অব মাল্টিমিডিয়া জনাব রফিকুল ইসলাম কচি, টেলিভিশন ও যাত্রা ব্যক্তিত্ব জনাব তাপস সরকার এবং যাত্রাদল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জনাব এম এ মান্নান। অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে যাত্রাশিল্পের গৌরবময় ইতিহাস ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার এবং বিনোদনের বৈচিত্র্যময় মাধ্যমগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে যাত্রাশিল্প বর্তমানে সংকটের মুখে পড়েছে।
বক্তারা যাত্রার পুনরুজ্জীবনের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা, পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ওপর জোর দেন। তারা মনে করেন, এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে শহুরে মঞ্চ পর্যন্ত নিয়মিত যাত্রাপালার আয়োজন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল শিল্পীদের জীবিকা নির্বাহের পথ খুলে দেবে না, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির এই ধারাকে পরিচয় করিয়ে দিতেও সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত যাত্রাশিল্পী তুষার দাস গুপ্ত-এর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। বক্তারা তাঁর অসামান্য অবদান স্মরণ করে বলেন, তাঁর মতো গুণীজনের কাজ নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এই সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে মূলত তাঁর কর্ম ও চিন্তার প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে গুণীজনদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এরপর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উদ্যোগ যাত্রাশিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।